১৩ বছরের ছাত্রীর সাথে ৪০ বছরের শিক্ষকের প্রেম! ১৫ লাখ টাকা কাবিনে শিক্ষকের সঙ্গে বিয়ে

0

কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন দ্বীপে শিক্ষক-ছাত্রীর অসম বাল্যবিয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে সেন্টমার্টিন দ্বীপে তোলপাড় চলছে। সেইসঙ্গে বাল্যবিয়ের অভিযোগে ওই শিক্ষককে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সেন্টমার্টিন দ্বীপের সরকারি প্রাইমারি স্কুলের প্যারা-টিচার হিসেবে কর্মরত সাইদুর রহমানের পৈত্রিক নিবাস নেত্রকোনায়।

৪০ বছর বয়সী এই শিক্ষক ৮ বছর আগে জীবিকার সন্ধানে সেন্টমার্টিন দ্বীপে এসেছিলেন। কিছুদিন ভবঘুরে থাকার পর ২ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার আবদুল আমিনের চা দোকানের কর্মচারী হিসেবে কাজ করেন।

এরপর তিনি ছোট একটি দোকান দেন। থাকতেন দ্বীপের জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর ছাদে। সেখানে অবস্থান করে বেশ কয়েকজন স্কুল শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়াতেন। তাদের মধ্যে স্কুলছাত্রী হাফসা বিবি একজন।

হাফসা বিবি সেন্টমার্টিন দ্বীপ ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের ডেইলপাড়া হাকিম আলী ও সাইলা বেগমের মেয়ে। এরপর সরকারি প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষক সংকটের সুবাদে তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির সহায়তায় ২০১৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে সেন্টমার্টিন দ্বীপ সরকারি প্রাইমারি স্কুলে প্যারা-টিচার হিসেবে নিয়োগ পান।

এদিকে, হাফসা বিবির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়া অবস্থায়। স্কুলে প্যারা-টিচারের চাকরি লাভের সুবাদে প্রেমের সর্ম্পক আরও গভীর হতে থাকে। হাফসা বিবি ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত পিইসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।

এরপর সেন্টমার্টিন দ্বীপ বিএন ইসলামিক হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হলেও নিয়মিত পড়ালেখা করেনি। ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মদের বোতল হাতে নিয়ে মাস্টার সাইদুর রহমানের একক ছবি এবং ছাত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর বিভিন্ন যুগল ছবি প্রকাশ পেলে এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

বিষয়টি নিয়ে এলাকায় সমালোচনা শুরু হলে গত ১৬ মার্চ রাতে ১৫ লাখ টাকা দেনমোহরে আনুষ্ঠানিকভাবে ওই ছাত্রীর সঙ্গে সাইদুর রহমানের বিয়ে হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সেন্টমার্টিন দ্বীপের সরকারি প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. রফিক বলেন, স্কুলের রেকর্ডপত্র অনুসারে হাফসা বিবির জন্ম ২০০৪ সালের ৫ জুলাই। সে হিসাবে ২২ মার্চ তার বয়স হচ্ছে ১৩ বছর ৮ মাস ১৭ দিন। ২০১৫ সালে হাফসা বিবি প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এছাড়া মাস্টার সাইদুর রহমান বিবাহিত ও দুই সন্তানের জনক। তার স্ত্রী নার্স হিসেবে চাকরি করেন এবং সন্তানরা প্রাইমারি স্কুলে লেখাপড়া করে। ১৩ বছরের স্কুলছাত্রীকে ১৯ বছরের তরুণী দেখিয়ে বাল্যবিয়ে দেয়া হয়েছে। খবর পেয়ে ওই শিক্ষককে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

এদিকে, সেন্টমার্টিন দ্বীপ সরকারি প্রাইমারি স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান বলেন, বর-কনে দুইজনই প্রাপ্তবয়স্ক। জন্ম নিবন্ধন অনুসারে হাফসা বিবির বয়স ১৯ বছর আর সাইদুর রহমানের বয়স ৩৮ বছর। সেন্টমার্টিন দ্বীপে শিক্ষক সংকট প্রকট। তাই সাইদুর রহমানকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তিনি অত্যন্ত ভালো মানুষ।

সেন্টমার্টিন দ্বীপ বিএন ইসলামিক হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ বাবু উজ্জল ভৌমিক বলেন, হাফসা বিবি ২০১৬ সালে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হলেও নিয়মিত পড়ালেখা করেনি।

এ বিষয়ে সেন্টমার্টিন দ্বীপ ইউপি চেয়ারম্যান ও সেন্টমার্টিন দ্বীপ বিএন ইসলামিক হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি আলহাজ নুর আহমদ বলেন, সাইদুর রহমান মাস্টার নামে কলঙ্ক। আমরা ফেসবুকে মদের বোতল হাতে মাস্টার সাইদুর রহমানের একক ছবি এবং আপত্তিকর যুগল ছবি দেখেছি। এ নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে সংশোধন হয়েছে বলে মনে করেছিলাম। এখন শুনছি বিয়ে হয়ে গেছে। যা অত্যন্ত জঘন্য ও দুঃখজনক।

এদিকে, সেন্টমার্টিন দ্বীপে বিয়ে নিবন্ধনের কাজি নেই। টেকনাফ কাজি অফিসের নিয়ন্ত্রণে ৫ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার শামসুল আলম ফরম পূরণ করে টেকনাফে পাঠালে বিয়ে নিবন্ধন হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শামসুল আলম বলেন, বর-কনের দেয়া তথ্যমতে নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার সাদুপাড়া গ্রামের ইসলাম উদ্দিন ও মালেকা বেগমের ছেলে সাইদুর রহমানের জন্ম ১৯৭৮ সালের ২৮ নভেম্বর। আর কনে টেকনাফ উপজেলার সেন্টমার্টিন দ্বীপ ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের ডেইলপাড়া হাকিম আলী ও সাইলা বেগমের মেয়ে হাফসা বিবির জন্ম ১৯৯৯ সালের তারিখ ৫ জুলাই। জন্ম নিবন্ধনে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের বিয়ে দেয়া হয়। তবে স্কুলের সার্টিফিকেট না পাওয়ায় তাদের বয়স যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলেও জানান তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here